কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত ১১১
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ১০ আগস্ট ২০২৬ স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে। এর কেন্দ্র ছিল কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকার প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের কম্পন কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। রাজধানী বোগোতা ছাড়াও কালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন শহরে মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও ভবন থেকে বেরিয়ে আসে। প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর ও পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
কীভাবে এত ভয়াবহ হলো?
ভূমিকম্পের মূল কারণ ছিল ভূগর্ভে সঞ্চিত টেকটোনিক চাপ হঠাৎ মুক্ত হয়ে যাওয়া। কলম্বিয়া একটি সক্রিয় ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত এবং দেশটির পশ্চিমাঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত।
এবারের ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মাটির অনেক গভীরে। USGS-এর হিসাবে গভীরতা প্রায় ১০৭ কিলোমিটার হলেও এত শক্তিশালী কম্পনের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের শক্তি, গভীরতা এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এর প্রভাব—সব মিলিয়েই ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার বেশ কয়েকটি শহর ও অঞ্চলে ভবন ধসে পড়ে। পেরেইরা, কালি, কুইবদো ও মানিজালেসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১,৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৬১টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পেরেইরায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন। কালি ও অন্যান্য শহরেও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে জরুরি সংস্থাগুলো ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধান করছে।
সর্বশেষ অবস্থা
১১ আগস্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ১১১ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৮৭ জন। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর ২০টির বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ধসের আশঙ্কায় উদ্ধারকাজেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
কলম্বিয়ার সরকার জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সরাসরি নজরদারি করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকর্মী, সেনা ও জরুরি বিভাগের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর কয়েকটি বিমানবন্দর নিরাপত্তা পরিদর্শনের জন্য বন্ধ রাখা হয়। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থার কিছু অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে নিখোঁজ ও ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, আফটারশকের ঝুঁকি এখনও রয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করে নিরাপদ স্থানে অবস্থানের আহ্বান জানানো হয়েছে।