যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন যারা মানসিক সমস্যা নিয়েও

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প; Image Source: Psychology Today

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকান্ড ও কথাবার্তা দেখে তাকে আপনার ‘পাগল’ কিংবা ‘বদ্ধ উন্মাদ’ মনে হয়? চিন্তার কিছু নেই।
এ তালিকায় আপনি ছাড়াও আছে আরো অসংখ্য ব্যক্তি। ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, নিরপেক্ষ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাধারণ মানুষ, এমনকি নামকরা মনোবিদদের মধ্যে অনেকেও মনে করে, মানসিক সমস্যায় ভুগছেন ট্রাম্প।
তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হলো, তার মধ্যে নার্সিসিস্টিক পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার রয়েছে। অনেকে আবার তাকে সাইকোপ্যাথ হিসেবেও চিহ্নিত করে থাকে।

ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশনা জগতে একটি সাব জনরারও জন্ম    হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে দ্য ডেঞ্জারাস কেস অব ডোনাল্ড ট্রাম্প: টুয়েন্টি সেভেন সাইকিয়াট্রিস্টস অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ এক্সপার্টস অ্যাসেস এ প্রেসিডেন্ট, রকেট ম্যান:
নিউক্লিয়ার ম্যাডনেস অ্যান্ড দ্য মাইন্ড অব ডোনাল্ড ট্রাম্প, এ ক্লিয়ার অ্যান্ড প্রেজেন্ট ডেঞ্জার: নার্সিসিজম ইন দ্য এরা অব ডোনাল্ড ট্রাম্প, টোয়ালাইট অব অ্যামেরিকান স্যানিটি: এ সাইকিয়াট্রিস্ট অ্যানালাইজেস দ্য এজ অব ট্রাম্প প্রভৃতি বই।
অবশ্য ট্রাম্পের এসবে কিছুই যায় আসে না।
তিনি নিজে বরাবরই নিজেকে দাবি করে এসেছেন একজন “খুবই সুস্থিত প্রতিভা’ হিসেবে।
তবে জেনে হয়তো অবাক হবেন, ট্রাম্পই কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের একমাত্র প্রেসিডেন্ট নন যার মানসিক স্বাস্থ্য ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০০৬ সালের এক গবেষণা থেকে জানা গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯ শতাংশ প্রেসিডেন্টই জীবনের কোনো একপর্যায়ে মনের অসুখে ভুগেছেন। আর ২৭ শতাংশ এ সমস্যায় ভুগেছেন ক্ষমতায় থাকাকালীনই।

নর্থ ক্যারোলাইনার ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষক দলটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রতি চারজন প্রেসিডেন্টের মধ্যে একজনের মধ্যেই ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতার ডায়াগনস্টিক ক্রাইটেরিয়া পাওয়া যেত।
এছাড়া কয়েকজন প্রেসিডেন্টের মধ্যে সোশ্যাল অ্যাংজাইটি বা সামাজিক উদ্বিগ্নতাও দেখা যেত।

গবেষণাটির নেতৃত্ব প্রদানকারী প্রফেসর জোনাথন ডেভিডসন বলেন, “অনেকের মধ্যেই এই সমস্যাগুলো সুপ্ত অবস্থায় থাকে। কিন্তু এরকম চাপের একটি কাজ তাদের সেই সুপ্ত সমস্যাগুলোকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।
একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খুবই কঠিন একটি কাজ, এবং কোনো মানুষের ভিতরই অসীম ক্ষমতা নেই যে সে দিনের পর দিন এর চাপ সহ্য করে যেতে পারবে।”

চলুন পাঠক, জেনে নিই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সেসব বিখ্যাত প্রেসিডেন্টের কথা, যারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কিংবা জীবনের কোনো একটি পর্যায়ে মানসিক অসুস্থতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন।

আব্রাহাম লিংকন

ইতিহাসবিদরা ধারণা করে থাকেন, আব্রাহাম লিংকন তার গোটা প্রেসিডেন্সির মেয়াদই অতিবাহিত করেছিলেন বিষণ্নতায় ভুগে। যখন তার বয়স কম ছিল, তিনি প্রায়ই আত্মহত্যার কথা বলতেন, যা একটি মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডারের লক্ষণ। এমনকি ১৭৭৬ সালের গ্রীষ্মে, যখন আমেরিকান বৈপ্লবিক যুদ্ধে বিপ্লবীদের অবস্থা খুব একটা ভালো চলছিল না, তখন তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। যারা লিংকনকে কাছ থেকে জানত ও চিনত, তারা একে তার “হতাশা” হিসেবে অভিহিত করত, কেননা তার মধ্যে প্রায় সবসময়ই নিরাশা ও দুঃখবোধ ঘোরাফেরা করত।
রোনাল্ড রিগ্যান

২০০৪ সালের জুন মাসে অ্যালঝেইমার রোগ সম্পর্কিত জটিলতায় মৃত্যু হয় রোনাল্ড রিগ্যানের। ডিমেনশিয়াকে (স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়া) সাধারণত কোনো মানসিক অসুখ নয়, বরং ব্রেইন ডিজঅর্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু রিগ্যানের মধ্যে যদি এই ডিজঅর্ডারের চিহ্ন প্রেসিডেন্ট থাকাবস্থায়ও পরিলক্ষিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে তার মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করেছে, ফলে নিজের কাজটি যথাযথভাবে করা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন তার সমালোচকরাও অনেকেই এমনটি ধারণা করত, এবং তাকে দেশ শাসনের অযোগ্য বলে দাবি করত।

তথ্যটি সংগ্রহ করা হয়েছে roar.media থেকে

কলা খাওয়ার সঠিক সময় কখন সকালে নাকি রাতে