ডায়াবেটিস মেলিটাস(Diabetes mellitus) একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। মানব দেহের  অগ্ন্যাশয়ে যদি যথেষ্ট পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তাহলে মানব দেহে যে রোগ সৃষ্টি  হয় তা হলো ‘ডায়াবেটিস’বা ‘বহুমূত্র রোগ’। তখন রক্তে চিনি বা শকর্রা এর উপস্থিতি জনিত অসামঞ্জস্য হিসাবে দেখা দেয়। ইনসুলিনের ঘাটতিই হল এ রোগের মূল কারণ। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন, যার সহায়তায় দেহের কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজ নিয়ে শক্তির জন্য ব্যবহার করতে পারে। ইনসুলিন উৎপণ্য বা ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা-এর যেকোনো একটি বা দুইটিই যদি না হয়, তাহলে রক্তে ধিরে ধিরে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর এটাকে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ঘটে যায় নানা রকম জটিলতা যেমন দেহের টিস্যু ও যন্ত্র ধীরে ধীরে বিকল হতে থাকে।

 

ডায়াবেটিস রুগীদের মহা ওষুধ ছিল যন্ত্রণাদায়ক ইনসুলিন ইঞ্জেকশন। ডায়াবেটিস রুগিরা এই ইনসুলিন ইঞ্জেকশন ব্যাবহার করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ আনার চেস্টা করে।

ডায়াবেটিস রোগীদের এই বার থেকে আর যন্ত্রণাদায়ক ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নিতে হবে না। কারণ এন্ডোক্রিনোলজির নামী জার্নাল প্লস ওয়ান এ প্রকাশিত একটি গবেষণা কেন্দ্রে একদল ভারতীয় গবেষকের দাবি করছেন, তারা এমন একটি রাসায়নিক  পদার্থ আবিষ্কার করেছেন, যা শরীরের মধ্যে ইনসুলিন এর মতোই কাজ করবে।
ওই রাসায়নিকটি দুই ধরনের ডায়াবেটিস যেমন (ডায়াবেটিস ১ এবং ডায়াবেটিস ২) ক্ষেত্রেই সমান কার্যকর করবে। গবেষকরা দাবি করছেন, ওই রাসায়নিকটি ভবিষ্যতে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

গবেষণার অন্যতম বিজ্ঞানী সমীর ভট্টাচার্য বলেন, ‘ডিএমপি নামের যে রাসায়নিক পদার্থ আমরা তৈরি করেছি, তা ইঁদুরের উপরে প্রয়োগ করে সফল হয়েছে।’ এছাড়া রাসায়নিকটি তৈরি বিষয়ে অসমের তেজপুর  বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য রসায়ন বিজ্ঞানী মিহির চৌধুরীই ভূমিকা প্রধান বলে মন্তব্য করে এসকেএম- এর এন্ডোক্রিনোলজিস্ট সতীনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন,  মানুষের উপরে ওই রাসায়নিক পদার্থটি  পরীক্ষা সফল হলে তা ওষুধ  হিসেবে বাজারে আনা হবে।’
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে যে ভাবে কাজ করবে ডিএমপি ।

(ডায়াবেটিস এক) এর ক্ষেত্রে প্যানক্রিয়াসের বিটা সেলগুলি সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে ইনসুলিন তৈরিই হতে পারে না। এ সব ক্ষেত্রে রোগীকে দেহের বাইরে থেকে ইনসুলিন নিতে হয়।

(ডায়াবেটিস  দুই)-এর ক্ষেত্রে শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয়। কিন্তু তার পরিমাণ কম এবং ওই ইনসুলিন শরীর এর ভিতর ঠিক মতো কাজ করতে পারে না।

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, নতুন রাসায়নিকটি (ডায়াবেটিস এক) এর ক্ষেত্রে একদম সঠিক ইনসুলিনের  মতো কাজ করবে। আর (ডায়াবেটিস দুই)-এর ক্ষেত্রে শরীরে চর্বির পরিমাণ কমিয়ে দেবে যার ফলে শরীরে যেটুকু ইনসুলিন থাকবে তাকে তারাতারি  সক্রিয় করে তুলবে।

এন্ডো ক্রিনোলজিস্টেরা জানিয়েছে, ডায়াবেটিস এর সময় শরীরে চর্বি থেকে শক্তি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় । এর জন্য দেহে জমে থাকা বা খাবারের সঙ্গে যুক্ত থাকা চর্বি গ্লুকোজে ভাঙতে পারে না।  জমে না থাকার বিপরীতে শরীরের  বিভিন্ন স্থানে জমাট বাধে।শরীরের ঐ চর্বি যাতে জমে থাকতে না পারে,তার জন্য বাজারে দু’টি মেডিসিন এক সময় চালু ছিল।

কিন্তু শরীরে মধ্যে তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকায় আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলি সে ওষুধের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেয়। সেই তুলনায় ডিএমপি সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে গবেষণাপত্রে দাবি বিজ্ঞানীদের।সমীর ভট্টাচার্য আরও বলেছেন, ‘ডিএমপি এক দিকে যেমন চর্বি থেকে শক্তি উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে উজ্জীবিত করবে,তেমনি ইনসুলিন এর মতো কাজ করবে। এর পাশাপাশি শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন প্রক্রিয়া নিষ্ক্রিয় থাকলে তাকেও তারাতারি সক্রিয় করে তুলবে।
অন্য এন্ডো ক্রিনোলজিস্টদের মধ্যে বিশ্বজিৎ ঘোষ দস্তিদার  বলেন, “বিভিন্ন ধরনের মলিকিউলের অস্তিত্ব সামনের দিকে  আসছে,যা ডায়াবেটিসের সঙ্গে লড়াই করার জন্য ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। জিএলপি ওয়ান অ্যানালগ-এর কথা আগেই জানা গিয়েছে যার সাহায্যে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি ওজন কমাতেও সাহায্য করবে।