অনলাইন যুগে চাকরির আশায় শুধু  বসে থেকে বেকার জীবনযাপন করার কোন মানেই হয় না। তবে চাকরি না করে কী করবেন? ব্যবসা? তাতে পুঁজি লাগবে না?  না, এই অনলাইনের যুগে একটি কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই পুঁজি ছাড়াই আজ থেকেই আপনি ব্যবসায় নামতে পারবেন খুব সহজে।

অনলাইন বিজনেস শুরু করার জন্য এ পর্বে থাকছে   ১৪টি অনলাইন বিজনেস আইডিয়া। যা জানতে পারলে খুব সহজে অনলাইন এর মাধ্যমে ডলার ইনকাম করতে পারবেন।

এসইও কনসালটেন্ট: আপনি কি সার্চ ইঞ্জিনের বিষয়ে জানেন? মানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে বুঝেন কিন্তু দুঃখের বিষয় সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে জানার পরও   কোথাও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠানের আশায় বসে না থেকে অনলাইনেই শুরু করেদেন  এসইও সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া।খুজলে অনেক প্রতিষ্ঠান পাবেন যারা আপনার পরামর্শ নেওয়ার জন্য বসে আছে।এছাড়া বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স সাইটে এমন কাজ অনেক পাবেন।আর না হলে সোজা  গিয়ে গুগল সার্চ করুন।

বিজনেস প্রশিক্ষণ: আপনার বিভিন্ন  ব্যবসা সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতেই পারে। কিন্তু অর্থের  অভাবে নিজের স্বপ্ন অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন না। আপনার এই অভিজ্ঞতা বসে বসে নষ্ট করার কোন মানেই হয় না। অনলাইনে এমন অনেক মানুষ পাবেন যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চাইছে। লিংকডইনে যান, সেখানে আপনি ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আর্টিক্যাল লিখতে পারবেন। এর মাধ্যমে সেখানে আপনি অনেক ক্লায়েন্ট পাবেন। তাদের সদুপদেশ দিয়ে নিজের মেধা এবং অভিজ্ঞতা খুব সহজে ঝালিয়ে নিতে পারবেন। সেই সঙ্গে টু-পাইস ইনকাম তো থাকবেই।

স্পেশালাইজড রিটেইলার: বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশেও অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন দেশের সব বড় শহরগুলোতেই স্পেশালাইজড শপ বা সুপারসপ রয়েছে । এদের মধ্যে অনেক ছোট বড় প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনলাইনে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রচার এবং বিজনেস শুরু করতে ইচ্ছুক থাকে । সেই সকল  প্রতিষ্ঠানের কোন একটির সঙ্গে চুক্তি করেই আপনি তাদের পণ্যসম্ভার দিয়ে একটি অনলাইন শপ চালু করে ফেলতে পারবেন।  যার ফলে ঘরে বসে হয়ে যাবেন রিটেইলার শপার।

সোশ্যাল মিডিয়া পরামর্শদাতা: তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সোশ্যাল সাইটগুলো চরম উত্কর্ষ অর্জন করে ফেলছে। জীবনের সব সমস্যার সমাধান যেন হয়ে উঠছে ফেসবুকের মত মাধ্যম গুলো। নিত্য নতুন ফিচারের পাশাপাশি বাড়ছে সোশ্যাল সাইট হ্যাক করে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজে ব্যবহার করার মত  নানা ঘটনা। আপনার যদি সোশ্যাল সাইটগুলোর ব্যবহারবিধি, নিরাপত্তাসহ ফ্রেন্ড-ফলোয়ার বৃদ্ধির বিভিন্ন টিপস জানা থাকে তবে আপনি খুব সহজে হয়ে যেতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়া কনসাল্টেন্ট। এমনটা করলে আশাকরি খুব সহজে যে কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ পেতে পারেন।

ওয়েব ডিজাইন: বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও সারা জাগানো বিজনেস এটা। এখন একটি ছোটখাট প্রতিষ্ঠানও চিন্তা করে তাদের একটা ওয়েবসাইট থাকা খুব প্রয়োজন। আপনার যদি ওয়েব ডিজাইন জানা থাকে তবে বসে থাকার কোন অর্থই হয় না। ফ্রিল্যান্স সাইটগুলোতে নিজের পোর্টফোলিও পোস্ট করুন। একটি নমুনা হিসাবে ওয়েব সাইটের লিংক দিয়ে রাখুন। বাজারদর বিবেচনা করে সাশ্রয়ী পারিশ্রমিক ঘোষণা করুন । আপনাকে আর ঠেকায় কে ?

আবেদনপত্র/কভার লেটার লেখা: আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, অনেক শিক্ষিত মানুষ সুন্দর করে একটি চাকরির আবেদনপত্র লিখতে পারে না। কিন্তু চাকরি ক্ষেত্রে একটি সুন্দর গ্রহণযোগ্য আবেদনপত্র কিংবা কভার লেটার অন্যদের সঙ্গে অনেক পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আপনার এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকলে লিংকডইন কিংবা সোশ্যাল সাইটগুলোয় বিষয়ে ক্লায়েন্ট খুঁজতে পারেন। ক্লায়েন্ট যে পাবেন এতে কোন ধরনের সন্দেহ নেই।

টাস্ক ম্যানেজার/সহকারী: আপনার যদি ভাল অর্গানাইজিং দক্ষতা থাকে তবে আপনি এই ব্যবসার জন্য উপযুক্ত। আপনি কি অনলাইনের বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান দিতে পারেন ? তবে আপনার এই দক্ষতা একজন ব্যাক্তিগত সহকারী কিংবা অনলাইন টাস্ক ম্যানেজার হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। Task Rabbit কিংবা Zirtual এর মত কোম্পানীগুলো টাকার বিনিময়ে আপনার মত মানুষকেই খুঁজে বেরাইতেছে। এসব সাইটে আপনি ডাটা রিসার্চ, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট সহ বিভিন্ন কাজে সহকারীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

প্রফেশনাল ফ্রিল্যন্সার: ফ্রিল্যান্সিং বলতে সহজভাবে অবসর সময়ের কাজকেই আমরা বুঝে থাকি। কিন্তু সময়ের পাশাপাশি ধারণাও পাল্টে গেছে। এখন প্রচুর বেকার তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিং কে মূল পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। কিন্তু আপনি চাইলে পার্টটাইম কাজও করতে পারেন। বেকার বসে না থেকে আজই যুক্ত হয়ে কাজ শুরু করে দেন  ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে।

মার্কেটিং: আপনি যদি আমাজনের মত সাইট গুলোতে পণ্যের রিভিউ লেখায় অভ্যস্ত থাকেন তবে এখনই তা বন্ধ করে ফেলুন। কারণ বিনামূল্যে কেন আপনি অন্য একজনের পণ্য মার্কেটিং করবেন? ওয়ার্ড অব মাউথ-এর মত অনেক কোম্পানী আছে যারা নিজেদের প্রোডাক্ট অনলাইনে প্রমোট করার জন্য আপনাকে অর্থ প্রদান করবে। আপনার যদি প্রচুর ফলোয়ার সমৃদ্ধ সাইট কিংবা সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থাকে তবে তো সোনায় সোহাগা । সো দেরি না করে আজই লেগে যান কাজে।

ই-বুক লেখক: আপনার লেখালেখির হাত, ভাষার দক্ষতা এবং টাইপিং স্পীড যদি খুব  ভাল থাকে তবে আপনি অনায়েসে একজন ই-বুক রাইটার হতে পারবেন। এটা অনেক সহজ একটা কাজ। বর্তমানে ই-বুকের চাহিদা এত পরিমাণে বাড়ছে যে ই-বুক রাইটার খুঁজতে পাবলিকেশন্স গুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অনলাইনে এমন গ্রাহক খুঁজে নিতে পারেন খুব সহজেই।

প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান: অনেক ছোটখাট কোম্পানী আছে যাদের কোন আইটি স্পেশালিস্ট থাকে না। তাদের প্রযুক্তিগত কোন সমস্যা হলে বাইরের লোক ডাকতে বাধ্য হয়। আপনি এই সুযোগটা খুব সহজে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে বসেই শুরু করতে পারেন প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান। সমস্যা হলে তারা আপনাকে জানাবে এবং আপনি ঘরে বসেই সহজে সমাধান দিয়ে দেবেন। এর জন্য আর কী চাই?


ভার্চুয়াল চালান:
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এই কাজটি আপনি নিজেই সহজে করে থাকেন ব্যাংক কিংবা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। আপনার একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে সেখানে গুগল চেক আউটের মত ট্রানজেকশন হ্যান্ডল করতে পারেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাদের অনলাইন চালান সমূহ অর্গানাইজ করার জন্য আপনাকে খুঁজে নেবে । আপনি তাদের সাইট থেকে পণ্যের ছবি বিবরণ কপি করে নিজের ওয়েবসাইটে আনুন। তারপর নির্দিষ্ট আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে নেমে পড়ুন পণ্য বিক্রয় এর কাজে।

হস্তশিল্প বিক্রেতা: অটোমেটিক মেশিনের যুগে হস্তশিল্পের কদর কোন ভাবেই কমেনি। বরং প্রচারের অভাবে এই প্রাচীণ শিল্প মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না। আপনি এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন। তাদের পণ্য আপনি অনলাইনে বিক্রি করবেন। গ্রাহকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ নিয়ে আপনি কুরিয়ারের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন গ্রাহকের  কাছে।

অ্যাপ ডেভলপার: স্মার্টফোনের যুগে অ্যাপের অসাধারণ ছড়াছড়ি। মানুষ এখন কম্পিউটারে বসে সাইট ব্রাউজ করার চাইতে স্মার্টফোন অ্যাপেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকে। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন অ্যাপ ডেভলপিংয়ে বেশ আগ্রহী। আপনার যদি কোডিং সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকে তাহলে লেগে পড়ুন অ্যাপ ডেভলপিংয়ে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে মাঠে নেমে পড়ুন। এছাড়া বিভিন্ন সফওয়্যার ডেভলপার কোম্পানীও অনলাইনে ডেভলপার চায় । প্রথমে নিজে একটি আকর্ষণীয় অ্যাপ তৈরি করে নমুনা হিসেবে দেখান তারপর যৌক্তিক পারিশ্রমিক দাবি করুন। আপনার কাজ পাওয়া নিশ্চিত হবে ।